দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম

Spread the love

দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ, দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম এবং দরুদ শরীফের ফজিলত। এছাড়াও ছোট দরুদ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে লেখার চেষ্টা করেছি।

দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম

দরুদপাঠ হচ্ছে নবীর উপর সালাম পেশ করা। দুরুদ ফারসী শব্দ, যার অর্থ হচ্ছেঃ আল্লাহ তাআ’লার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য রহমত, বরকত ও শান্তির জন্য দোয়া করা।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। কোরআনে এসেছে ‘অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি যথাযথ দরুদ ও সালাম পেশ করো’ (সূরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)।

  • জীবনে একবার দরুদ-সালাম পাঠ করা ফরজে আইন।
  • দরুদ-সালাম অত্যন্ত আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে খুব ধীরস্থিরভাবে চুপি চুপি পড়া উচিত।
  • দরুদ শরীফ পড়ার সময় অধিক নড়াচড়া, মাথা দুলানো, চিৎকার বা উঁচু আওয়াজ করা যাবে না।
  • একই বৈঠকে একাধিকবার নবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হলে প্রথমবার সবার জন্য দরুদ পাঠ করা আবশ্যক (ওয়াজিব)।
  • নবীজি (সা.)-এর নাম এক বৈঠকে বারবার লিখলে প্রথমবার দরুদ লিখা আবশ্যক (ওয়াজিব)।


অজু ছাড়া যে কোনো অবস্থায় দরুদ শরীফ পড়া যায়। তবে অজু অবস্থায় এবং আদবের সঙ্গে দরুদ পড়া উত্তম।
জুমা বা ঈদের খুতবায় নবী (সা.)-এর নাম এলে মনে মনে দরুদ পড়বে, মুখে উচ্চারণ করবে না।

নবীজির রওজা শরিফ জিয়ারত ও তার নাম বলা বা শোনার সময়। মসজিদে প্রবেশের সময় ও বের হওয়ার সময়। কোনো বৈঠক থেকে ওঠার সময়। দোয়া বা মোনাজাতের আগে ও পরে। আজানের পর দোয়ার আগে। অজুর শেষে, চিঠিপত্র বা অন্য কিছু লিখার আগে। কোরআন তেলাওয়াত বা অন্য কোনো বইপুস্তক পাঠের আগে। দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ ও সব রকমের বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সব সময় বেশি করে দরুদ পড়ুন।

আপনাদের মধ্যে অনেকেই পড়ার মতো কিছু ‘সহীহ দুরুদ’ জানতে চান। নীচে কয়েকটি সহীহ দুরুদ আরবী, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ বর্ণনা করেছি।

উল্লেখ্য: আমি এখানে বা অন্য লেখাগুলোতে উচ্চারণের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করি। মনে রাখবেন, আরবীর বাংলা উচ্চারণ দেখে কখনোই ক্বুরআনের আয়াত, দোয়া বা দুরুদ শুদ্ধভাবে পড়া যায় না। তাই আপনারা সব সময়েই আরবী থেকে দেখে পড়বেন। শুধুমাত্র কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে বাংলা উচ্চারণের সাহায্য নেবেন। শুধুমাত্র বাংলা উচ্চারণ দেখে মুখস্থ করবেন না।

দুরুদ শরীফের ফজিলত :

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন।

সূত্র : (মুসলিম, মিশকাত ৯২১ নং)।

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আ’স (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার কারণে তার উপর দশটি রহমত (করুণা) অবতীর্ণ করবেন।

সূত্র: (মুসলিম: ৩৮৪, তিরমিযী: ৩৬১৪, নাসায়ী ৬৭৮, আবূ দাউদ: ৫২৩, আহমাদ: ৬৫৩২)।

অন্য এক বর্ণনায় আছে,
যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ১০টি পাপ মোচন করবেন ও সে ১০টি মর্যাদায় উন্নীত হবে।

সূত্র : (নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/৫৫০,
মিশকাত ৯২২নং)।

জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ার ফজিলত

প্রশ্ন: জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পড়তে বলা হয় এর কারণ কি?

উত্তর: শুক্রবারে আমাদের যে সব করণীয় রয়েছে তারমধ্যে রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি অধিক পরিমানে দুরুদ পাঠ করার কারণ বর্ণিত হয়েছে নিম্নোক্ত হাদীসটিতে:
আউস বিন আউস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَام ، وَفِيهِ قُبِضَ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ -أَيْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ- قَالَ : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمْ السَّلام

তোমাদের দিন সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে, এই দিনে সিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং মহা বিপর্যয়ও (কিয়ামত) ঘটবে এই দিনেই। তাই এই দিনে তোমরা বেশি বেশি আমার উপর দরুদ পাঠ করবে; কেননা তোমাদের দরুদ আমার উপর পেশ করা হয় জুমার দিনে।

সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলে, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কবরে গলে শেষ হওয়ার পরেও কিভাবে আপনার উপর দরুদ পেশ করা হয়? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।

সূত্র :(আবু দাউদ,নাসাঈ,ইবনু মাজা প্রমুখের বরাতে সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব,মিশকাত আলবানী হা:নং১৩৬১)।

দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

দুরুদে ইব্রাহীম

সর্বোত্তম দুরুদ হচ্ছে দুরুদে ইব্রাহীম,যা আমরা সবাই সালাতে পাঠ করে থাকি। আপনি দুরুদে ইব্রাহীম পড়ে যে সওয়াব ও ফযীলত পাবেন, অন্য কোন দুরুদ পড়ে তার সমান সওয়াব ও ফযীলত পাবেন না।

দুরুদে ইব্রাহীম (দরুদ শরীফ আরবি)

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ-ওয়া আ’লা আ-লি মুহা’ম্মাদ, কামা সল্লাইতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হা’মীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ-ওয়া আ’লা আলি মুহা’ম্মাদ, কামা বা-রাকতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রাহীম। ইন্নাকা হা’মীদুম মাজীদ।

বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি অবতীর্ণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহীম এবং তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি অবতীর্ণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিম এবং তাঁর পরিবারের প্রতি বরকত দান করেছিলেন, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।
সূত্র: সহীহ বুখারীঃ ৩৩৭০, সহীহ মুসলিম।

দুরুদে ইব্রাহীম ২

দুরুদে ইব্রাহীম সহীহ হাদীসে বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। এখানে প্রথমে যেইভাবে দেওয়া হয়েছে, এই বর্ণনা সবচাইতে বেশি পাওয়া যায়। এছাড়াও নীচের এই দুরুদটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। আপনারা সালাতের ভেতরে বা বাহিরে, যেকোন সময়ে এটা পড়তে পারেন।

দুরুদে ইব্রাহীম ২ (দরুদ শরীফ আরবি)

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد وبارك على محمد وعلى آل محمد كما صليت وباركت على إبراهيم وآل إبراهيم إنك حميد مجيد

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ-ওয়া আ’লা আ-লি মুহা’ম্মাদ, ওয়া বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ-ওয়া আ’লা আলি মুহা’ম্মাদ, কামা সল্লাইতা ওয়া বারাকতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হা’মীদুম মাজীদ।

বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি অবতীর্ণ করুন এবং বরকত দান করুন, যেমনিভাবে আপনি ইব্রাহীম এবং তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি ও বরকত দান করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।


সূত্র: সুনানে আন-নাসায়ীঃ ৫৯/১৬৪, আত-তাহাবী। আবু সাঈদ ইবনুল আ’রাবী রহি’মাহুল্লাহ তাঁর “আল-মু’জাম” গ্রন্থে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহি’মাহুল্লাহ এই দুরুদটিকে তাঁর “জালাউল আফহাম” গ্রন্থে সহীহ বলেছেন। এছাড়াও আল্লামাহ নাসির উদ্দীন আলবানী রহি’মাহুল্লাহ তাঁর রচিত “নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি” গ্রন্থে এই দুরুদটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন।
উপরের দুরুদ দুইটি আপনারা সালাতের ভেতরে অথবা বাহিরে পড়তে পারবেন।

ছোট দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

এই ছোট দরুদ শরীফ গুলি সালাতে পড়া যাবেনা, কিন্তু সালাতের বাহিরে সংক্ষিপ্ত দুরুদ হিসেবে এগুলো পড়া যাবে।

সাহাবী উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, “এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এসে বসল এবং বলল, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে কিভাবে সালাম জানাব তা আমরা জানি। কিন্তু আমরা আপনার উপর কিভাবে ‘সালাত’ তথা দরূদ পাঠ করব?

আমাদেরকে তা বলে দিন।” তখন নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম (কিছুক্ষণ) চুপ থাকলেন, এমনকি আমরা ভাবলাম যদি প্রশ্নকারী প্রশ্ন না করতো, তাহলে অনেক ভাল হত! তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা আমার উপর সালাত (দুরুদ) পাঠ করার জন্য বলোঃ

ছোট দরুদ শরীফ আরবি

اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَبىّ الأُمِيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ.

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিনিন-নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আ’লা আলি মুহা’ম্মাদিন কামা সল্লাইতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হা’মীদুম-মাজীদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি নিরক্ষর নবী মুহা’ম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে রহমত প্রেরণ কর, যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।

সূত্রঃ ইসমাঈল কাযীঃ হাদীস নং ৫৯, হাদীসটি হাসান।

ছোট দুরুদ-যায়েদ ইবনু খারিজাহ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে (দুয়া ও দুরুদের ব্যাপারে) প্রশ্ন করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা আমার উপর সালাত (দরূদ) পড় এবং অনেক বেশী দুয়া করার জন্য চেষ্টা কর। (আমার জন্য দুরুদ পড়ার জন্য তোমরা) এইভাবে বলোঃ

ছোট দরুদ শরীফ আরবি

الَّلهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ .

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিওঁ-ওয়া আ’লা আলি মু’হাম্মাদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি মুহা’ম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর রহমত বর্ষণ কর।
উৎসঃ সুনানে নাসায়ীঃ হাদীস নং-১২২৫, হাদীসটি সহীহ।

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبَيِّنَا مُحَمَّدٍ

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আ’লা নাবিয়্যিনা মুহা’ম্মাদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

সবচাইতে ছোট যেই দুরুদ পড়া যায়ঃ

صلى الله عليه وسلم

ছোট দরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণঃ সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম।

অর্থঃ আল্লাহ তাঁর (মুহা’ম্মদের) প্রতি সালাত (দয়া) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করুন।

দুরুদ শরীফ কখন পড়তে হয়?

নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকাল বেলা আমার উপর দশবার দরুদ পাঠ করবে এবং বিকাল বেলা দশবার দরুদ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে আমার সুপারিশ দ্বারা সৌভাগ্যবান হবে।” ইমাম তাবরানী হাদীসটি দুইটি সনদে সংকলন করেছেন, যার একটি সনদ হাসান। মাজমাউ’য যাওয়ায়েদঃ ১০/১২০, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১/২৭৩।

সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয় এরকম দোয়া এবং দরুদপাঠ থেকে এখনি সাবধান হন কারণ কিছু দোয়া ও দুরুদের মাঝে সরাসরি শিরকী ও কুফুরী কথাও দেয়া আছে, যেইগুলো বিপদ-আপদ অথবা রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার আশায় মানুষ সওয়াবের নিয়তে সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করছে। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।

কয়েকটি দোয়ার বইয়ের নাম উল্লেখ করলাম যেইগুলোর তেমন কোন দলিল নেই:

  • আহাদ নামা,
  • দুয়ায়ে গাঞ্জুল আরশ,
  • হাফতে হাইকল,
  • হিজবুল বাহার্ ইত্যাদি।

এইগুলো কুরানের বিভিন্ন আয়াত অথবা মানুষের বানানো দোয়া একত্রিত করে দোয়ার মতো বানানো হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) করেন নি এবং অনুমোদন দেননি। এইভাবে কুরআনের আয়াত উল্টা পাল্টা করে তেলাওয়াত করাটা বেদাত কারণ ইবাদত নিজের মনমতো করার সুযোগ নাই। ইবাদত ঠিক সেইভাবেই করতে হবে, যেইভাবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। এই দোয়াগুলোর যে উপকার ও ফযীলতের কথা বলা আছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আল্লাহ এই সমস্ত জাহেল হুজুর-মাওলানাদের উচিৎ বিচার করুন, যারা মিথ্যা কথা বলে চালু করেছে।

নিচে কয়েকটি দুরুদ শরীফ এর নাম উল্লেখ করা হলো সেগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট :

  • দুরুদে হাজারী,
  • দুরুদে নারিয়া,
  • দুরুদে মাহী,
  • দুরুদ তাজ,
  • দুরুদে লাখী,
  • দুরুদে তুনাজ্জিনা ইত্যাদি।

এইগুলো মানুষের বানানো দুরুদ। এইগুলো পড়লে কোনো সওয়াব নেই, উল্টা বেদাত করার কারণে গুনাহ হবে। দুরুদের মাঝে শ্রেষ্ঠ দুরুদ হচ্ছে দুরুদে ইব্রাহিম, যেটা আমরা নামাযে পড়ি। এই দুরুদ বেশি বেশি করে পড়ুন, একবার দুরুদ পড়লে আল্লাহ তাআলা ১০ বার রহম করেন। তবে সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয় এমন মানুষের বানানো ভুয়া বেদাতী দুরুদ পড়বেন না।

বিশেষ করে মা বোনেরা ওযীফার বই থেকে বেদাতী দোয়াগুলো খুব বেশি বেশি পড়ে থাকেন। আপনারা এই সমস্ত বেদাতী হুজুরদের লেখা ওযীফার বই পড়বেন না। আপনারা সহীহ্ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত দোয়া পড়ুন।

দরুদ শরীফের ১০০টি চমৎকার উপকারীতা

দরুদ শরীফের ১০০টি চমৎকার উপকারীতা সম্পর্কে জানতে অনেকই অনলাইনে খোজাখোজি করছেন।এই সম্পর্কে সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত কোন তথ্য জানতে পারলে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করবো।

সম্মানিত ভাই এবং বোনেরা আপনাদের প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ জানা মানুষের নিকট জানুন তবে প্রমাণ সহকারে। আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না।

দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম এই পোস্ট সম্পর্কে আপনাদের যেকোনো মতামত কমেন্টে লিখতে পারেন। আর আমার ফেসবুক পেজ লাইক দিয়ে আমার সাথে যুক্ত থাকুন।

দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম এই পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদের জানার সুযোগ করে দিন।

মানুষের ভুল হতেই পারে, তাই ভুলগুলো ক্ষমা করে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইল।

তথ্য সংগৃহীত : ফেসবুক /যুগান্তর ইত্যাদি।

ট্যাগ সমূহ: দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম, দরুদ শরীফ বাংলা, দরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ, দুরুদ শরীফ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ, দরুদ শরীফের ফজিলত, দরুদ শরীফের ১০০টি চমৎকার উপকারীতা।


Spread the love

Leave a Comment